Showing posts with label habit of reading. Show all posts
Showing posts with label habit of reading. Show all posts

Wednesday, September 19, 2018

নর্স মিথলজি অনুযায়ী আমাদের এই মহাবিশ্ব

নর্স মিথলজি অনুযায়ী আমাদের এই মহাবিশ্ব...

নর্স মিথলজি


মিথলজি পড়তে আমার কাছে খুব মজা লাগে। বিভিন্ন দেবদেবীর মজার মজার সব কাহিনী। গ্রিক মিথলজি পড়ার পর এখন পড়তেছি নিল গেইম্যানের নর্স মিথলজি। 

নর্স কারা? 

মধ্যাযুগের স্কেন্ডেনেভিয়া বা নরওয়ের অধিবাসীদের সাধারণত নর্স বলা হতো। 
নর্স মিথলজিতে অসংখ্য দেবদেবীর কথা বলা থাকলেও বেশির ভাগ কাহিনীই সর্বপিতা ওডিন, বজ্রদেবতা থর আর গ্রেট চালবাজ, সুদর্শন লোকিকে নিয়ে লেখা। 
চলুন দেখি  সৃষ্টির শুরুতে কেমন ছিলো আমাদের এই মহাবিশ্ব, 
নর্স মিথলজি অনুযায়ী সৃষ্টির শুরুতে নিফেলহাম বা উত্তর মেরুতে ছিলো এগারোটি বিষাক্ত নদী,  হুরগেল্মির নামক ঝর্ণা।  আর চারদিকে সবসময়ই ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকতো। 
আর মুসপেল বা দক্ষিন মেরুতে আগুন জ্বলতো সবসময়, গলিত লাভা খেলা করতো। মুসপেলের কিনারপ্রান্তের এক স্থলভাগে আগুনের তলোয়ার হাতে নিয়ে  দাঁড়িয়ে আছে সুর্ট। তার হাতেই ধ্বংস হবে পৃথিবী।  তার হাতের জ্বলন্ত তলোয়ার দিয়ে সে পুরো পৃথিবী একদিন ধ্বংস করে দিবে। 
এবার আসা যাক  দৈত্য আর দেবতাদের কিভাবে জন্ম হয়েছে সে বিষয়ে। 
ইমির নামক এক দৈত্যকে বলা হয় সকল দৈত্যের পুর্বপুরুষ তার থেকেই বাকি দৈত্যদের জন্ম হয় আর তার জন্ম হয়েছে গলে যাওয়া বরফ থেকে। এই গলে যাওয়া বরফ থেকে আধুমালা নামের এক শিংবিহীন গাভীরও জন্ম হয়। আর এই গাভীর দুধ খেয়ে বেড়ে উঠে ইমির। আর আধুমালা নামের সেই গাভী সারাদিন বরফ চাটতে চাটতে তার ভেতর থেকে আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসে মানুষের আকৃতি আর এর নাম দেয়া হয় বুরি। বুরি নামের এই দেবতা হলো সকল দেবতার পুর্বপুরুষ। দৈত্যদের ভেতর থেকেই একজনকে  স্ত্রী হিসেবে বেছে নিলো বুরি আর জন্ম দিলো তাদের প্রথম ছেলে বোর। বোর আবার বিয়ে করে আরেক দৈত্য কন্যাকে আর তারা জন্ম দিলো ওডিন, ভিলি আর ভে নামের তিন ছেলে সন্তান। 

এবার আসি মহাবিশ্বের সৃষ্টি কিভাবে হয়েছে সে বিষয়ে। 
ওডিন, ভিলি আর ভে তিন ভাই সারাদিন ঘুরে, ফিরে খায় দায় কোন কাজ কর্ম নাই। কিন্তু এভাবে ফিলিং এলোন টাইপের জীবন কর কতদিন। আর তাই তারা একদিন চিন্তা করলো এভাবে আর কতদিন কিছু একটা করা দরকার। আর সেই "কিছু একটা করা দরকার" ভাবনা থেকেই তারা সিদ্ধান্ত নিলো তারা এই মহাবিশ্বের প্রানের বিকাশ ঘটাবে। কিন্তু বললেইতো আর প্রানের বিকাশ ঘটানো সম্ভব না এর জন্যতো একটা পরিবেশ চাই নাকি? আর তাই তারা তিন ভাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলো তারা ইমির নামের দৈত্যকে হত্যা করবে। কেননা দৈত্য থাকলে প্রানের বিকাশ ঘটানো সম্ভব না। যেই কথা সেই কাজ। শুভদিন দেখে (যদিও তখন শুভ অশুভ বলে কোন কিছুর অস্তিত্ব ছিলো কিনা জানি না) তারা ইমিরকে হত্যা করলো। তিন ভাই শুধু ইমিরকে হত্যা করেই থেমে থাকে নি সুন্দরভাবে তার দেহের ব্যবচ্ছেদও করে ফেললো।  তারা ইমিরের চোখের পাপড়ি দিয়ে উচু এক দেয়াল বানিয়ে দিলো যাতে বাকি যে দৈত্য আছে তারা যেন প্রানীকুলের কোন ক্ষতি করতে না পারে। এ দেয়ালের ভেতরের প্রান্ত হচ্ছে মিডগার্ড, যেখানে মানুষের বসবাস। তিনভাই মিলে ইমিরের মাংস দিয়ে বানালো মাটি, হাড় দিয়ে বানালো পাহাড়-পর্বত আর দাত আর বাকি হাড়ের টুকরা দিয়ে বানালো নুড়ি পাথর, বালি, কঙ্কর। 
এবার আসা যাক মানুষ কিভাবে বানানো হয়েছিলো সে প্রসঙ্গে।  
নর্স মিথলজি

আমরা জানি বিজ্ঞান অনুযায়ী মানুষ এসেছে বানর থেকে আর আমরা যারা মুসলমান আছি তারা বিশ্বাস করি আমাদের আদি পিতামাতা হচ্ছেন আদম আর হাওয়া। আর নর্স মিথলজি অনুযায়ী মানুষ মানুষ তৈরী করা হয়েছে  অ্যাস আর এম্বার গাছের গুড়ি থেকে। দেবতারা এই দুটি গাছে গুড়ি মানুষের সমান করে কাটেন আর এরপর ওডিন এর মধ্যে জোরে শ্বাস নিয়ে প্রান দান করে, ভিলি তাদেরকে ইচ্ছাশক্তি, বুদ্ধিমত্তা আর চলার শক্তি দান করে আর ভে দান করে হাত, পা, চোখ, নাক, কান ইত্যাদি নানা অঙ্গ।  মানুষ তো বানানো হলো এবার এদের নাম দেয়ার পালা। দেবতারা মিলে অ্যাস গাছ থেকে বানানো পুরুষের নাম দিলেন অ্যাস্ক আর এম্বার গাছ থেকে বানানো নারীর নাম হলো এম্বলা। অ্যাস্ক আর এম্বলা হচ্ছে মানুষের আদি পিতামাতা। 

সবকিছুইতো তৈরী হলো এবার দরকার সবার জন্য বাসস্থান। কেননা দেবতা, মানুষ, দৈত্য সবইতো আর এক দুনিয়ায় থাকতে পারবে না। দেবতারা মিলে এরও সমাধান করে ফেললো। মহাবিশ্বের যেহেতু তখন জায়গার অভাব ছিলো না তাই প্রত্যেকের জন্য বানানো হলো নয়টি আলাদা আলাদা জগত। এগুলো হলো : 
 ১। এসগার্ড, ওডিনসহ সব এসির দেবতারা থাকে এখানে,
২। আলফহেইম, লাইট এলফদের বাসস্থান,
৩। নিডাভেলির, বামনেরা থাকে এখানে,
৪। মিডগার্ড, মানুষের বাসস্থান 
৫। জতুনহাইম, বরফ দৈত্যদের বাসস্থান,
৬। ভ্যানাহাইম, ভ্যানিরদের বাসস্থান,
৭। নিফেলহাম, অন্ধকার, কুয়াশাচ্ছন্ন এক জগৎ, 
৮। মুসপেল, আগ্নেয়গিরির জগৎ,
৯। হেল, যারা যুদ্ধক্ষেত্রে বীরত্ব না দেখিয়েই মারা যায় তাদের পরবর্তীতে এখানে স্থান হয়। 
আর ইগড্রাসিল নামক একটি বিশাল অ্যাস গাছ এই নয়টি জগতকে ঘিরে রেখেছে।

এগুলোতো গেল বইয়ের প্রাথমিক কথাবার্তা।  সবচেয়ে মজার কাহিনীগুলো লেখা হয়েছে এরপরের অংশে। কিভাবে লোকির চালাকির মাধ্যমে থরের চুরি যাওয়া হাতুরি উদ্ধার হয় আর মহাসুন্দরী ফ্রেয়া বেচে যায় থ্রাইম নামক এক দানবকে বিয়ে করার হাত থেকে আর ওডিন কিভাবে দেবতাদের জন্য নিয়ে আসে কাব্যসুরা জানার জন্য পড়তে পারেন নীল গেইম্যানের এই অসাধারন বইটি। 
বি: দ্র: আমার কাছে মিথলজি অনেকটা রূপকথার গল্পের মতো, সেই সোনার কাঠি রূপার কাঠি দিয়ে ঘুম পারিয়ে রাখা রাজকন্যার গল্পের মতো। সুতরাং আমার এই লেখায় দেব, দেবি আর মহাবিশ্ব সম্পর্কিত তথ্য পড়ে কেউ বিভ্রান্ত হবে না যে আমি এসব বিশ্বাস করি বা আপনাকেও বিশ্বাস করতে বলছি। আমি আগেই বলছি মিথলজি জানতে আমার কাছে ভালো লাগে তাই পড়ছি।
হ্যাপি রিডিং  :)

Sunday, July 15, 2018

যে বইগুলো ইংরেজিকে করবে সহজ

  যে বইগুলো ইংরেজিকে করবে সহজ!!










আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা ইংরেজিতে লেখা বই পড়তে ভয় পাই। এরপর যা হয়, আমারা সেই বইটার বাংলা অনুবাদ কিনে পড়ি। কিন্তু তাতে সবেচেয়ে বড় সমস্যা যেটা হয় তা হলো, এই অনুবাদ পড়ে কখনোই আসল ইংরেজি বইয়ের মজা পাওয়া যায় না।  যারা কঠিন কঠিন শব্দ না জানার ভয় কিংবা দুর্বল শব্দ ভাণ্ডারের ভয়ে আসল ইংরেজি বই পড়া থেকে নিজেদের বঞ্চিত করছেন তাদের জন্য আজকের এই লেখা।

একদম সহজ ইংরেজিতে লেখা অনেক বই আছে। প্রথমে সেগুলো দিয়ে শুরু করুন। এতে আপনার মাঝে কনফিডেন্স কাজ করবে যে আপনি পারবেন। এমন কিছু সহজ ইংরেজি বইয়ের লিস্ট দিচ্ছি যেগুলো আপনার ইংরেজিকে করে তুলবে মজার। 

১. Fantastic Mr. Fox
ইংরেজি শিশুতোষ লেখার অন্যতম পথিকৃৎ রোল্ড ডাহলের ছোটদের জন্য লেখা এই এই বইটিতে বর্ণনা করা হয়েছে চালাক  এক শিয়ালের বিভিন্ন কর্মকান্ডের কথা। ছোটদের জন্য লেখা সহজবোধ্য  এই বইটি ছোট বড় সবার জন্যই মজার একটি বই। 

২. Harry Potter and the Philosopher's Stone – J. K. Rawling
জে কে রাওলিং এর হ্যারি পটার সিরিজের নাম কমবেশি আমরা সবাই শুনেছি। আর এই সিরিজের প্রথম বই এটি। বইয়ের কাহিনি এগারো বছরের এক অবহেলিত বালক হ্যারিকে নিয়ে। যাদুর এক দুনিয়ার সন্ধান পাওয়া আর বন্ধুদের নিয়ে একের পর এক বাধা পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যাবার চমৎকার কাহিনী লেখা এই বইটি। পড়ার সাথে সাথে হ্যারির সাথে তার জাদুর দুনিয়ায় পাঠক কখন যে হারিয়ে যাবেন বুঝতেই পারবেন না। 

৩. The Old Man and the Sea – Ernest Hemmingway
আর্নেস্ট হেমিংওয়ের এই নোবেলজয়ী সৃষ্টির মূল চরিত্র এক বৃদ্ধ নাবিক। সান্তিয়াগো নামের এই বৃদ্ধ নাবিকের সাগরের বুকে সংগ্রাম করে টিকে থাকার লড়াই নিয়ে এগিয়ে গেছে বইয়ের কাহিনী। টানা ৮৪ দিন মাছ না পাওয়ার ফলে তার সহকারী কিশোর ম্যানোলিন তাকে ছেড়ে চলে যায়। কিন্তু এতেও তার মনোবল টলে না। বৃদ্ধ জেলে তার চেস্টা অব্যহত রেখে সাগরে পাড়ি জমায় তার পুরোনো ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে।
হেমিংওয়ের অত্যন্ত সহজ ভাষায় লেখা এই বইটি পড়তে পড়তে আপনার মন আপনাতেই হারিয়ে যাবে অকূল সাগরের জলরাশিততে। 

8. The Giver – Lois Lowry 
লইস লাওরির এই বইয়ের মূল চরিত্র এক কিশোর, নাম জোনাস।  জোনাস এমন এক সমাজে বাস করে, যেখানে প্রতিটার মানুষকেই অনেকগুলো নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। স্বাধীনতার কোন নামগন্ধ নেই এখানে। ছোট ছোট বাক্যে সাজানো অত্যন্ত সহজ ভাষায় লেখা এই বইটির কাহিনী প্রথম থেকেই মনোযোগ ধরে রাখে।

৫. Charlotte’s Web – E.B. White
এটি আরেকটি শিশুতোষ বই। ছোটদের জন্য লেখা হলেও এই বইটি ছোট বড় সবার কাছেই জনপ্রিয়।  এই বইয়ে এক ফুটে উঠেছে এক শূকরছানার প্রতি এক বাচ্চা মেয়েের ভালোবাসা আর বন্ধুত্ব।  

৬. Mieko and the Fifth Treasure – Eleanor Coerr
বইয়ের প্রধান চরিত্র হচ্ছে মেইকু। সে খুবই প্রতিভাবান একনজন ক্যালিওগ্রাফার। জাপানে এক বোমা হামলার সময় তার হাত মারাত্মকভাবে আহত হয়। এরপর সে তার দাদার বাড়িতে আসে থাকার জন্য। সে নতুন স্কুলে ভর্তি হয়, কিন্তু তার ক্লাশমেটারা তাকে নিয়ে হাসাহাসি করে। এরইমাঝে ইয়োসি নামের এক ক্লাশমেটের সাথে তার বন্ধুত্ব হয়। ইয়োশির আন্টি মেইকুকে আবার তার রংতুলি নিয়ে কাজ করার জন্য অনুপ্রাণিত করে।

৭. The Alchemist – Paulo Coelho
পাউলো কোয়েলহোর বিখ্যাত এই বইটিকে আধুনিক ক্লাসিকের পর্যায়ে রাখা হয়। বইয়ের প্রধান চরিত্র হচ্ছে সান্তিয়াগো নামের এক রাখাল। সে শুধু দেশ ভ্রমনের জন্যই রাখাল হয়েছে। সে ছুটে চলেছে তার স্বপ্নের পথে, স্বপ্নে দেখা গুপ্তধন সন্ধানের পথে। তাই এই অভিযানে তার সাথে দেখা হয় সলোমানের রাজার। সেই রাজা তাকে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেয় আর দেয় দুটি পাথর। তারই মাঝে সে এক প্রতারকের কবলে পড়ে সব হারিয়ে নিঃস হয়ে পড়ে। এতকিছুর পরেও সে তার স্বপ্নের কথা ভুলে না। এক ব্যবসায়ির এখানে কাজ করে আবার পাড়ি জমায় তার স্বপ্নের পথে। এরইমাঝে দেখা হয় আলকেমিস্টের সাথে। দৃঢ় মনোবাল আর ইচ্ছাশক্তি থাকলে মানুষ যেকোন অসাধ্যকেই যে সাধন করতে পারে এই ব্যাপারটিই পাউলো কোয়েলহো দেখিয়েছেন তার এই বইয়ের মাধ্যমে। সহজ ও সাবলীল ভাষায় লেখা এই বইটি পড়ে পাঠক যেমন মজা পাবেন তেমনি পাবেন জীবনে সামনে এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা।  

আনন্দের সাথে বই পড়া শুরু হোক এখন থেকেই। হ্যাপি রিডিং।